বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ইরানের শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু করলেও এখন খোদ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কণ্ঠেই শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। পর্দার আড়ালে তেল আবিব স্বীকার করে নিয়েছে যে, চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ বা বিমান হামলায় দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হিসেবি ভুলে হোঁচট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরুতে ধারণা করেছিল, ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু হলে ইরানিরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসবে এবং বর্তমান সরকারের পতন ঘটাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন এবং বহু বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবুও দেশটিতে কোনো গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো, অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে ক্ষোভ থাকলেও জাতীয় সংকটের এই মুহূর্তে সাধারণ ইরানিরা বর্তমান শাসকদের পাশেই দাঁড়াচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর সুরবদল হামলা শুরুর দিন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, তাদের পদক্ষেপ ইরানি জনগণকে ‘নিজেদের ভাগ্য গড়ার’ পরিবেশ তৈরি করে দেবে। তবে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তার কণ্ঠে নমনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল কেবল সহায়তা করতে পারে, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত ইরানি জনগণকেই নিতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত গণঅভ্যুত্থান না ঘটায় নেতানিয়াহুর এই ‘আকুতি’ মূলত তার লক্ষ্যের ব্যর্থতাই প্রকাশ করছে।
ট্রাম্পের অবস্থান ও জ্বালানি সংকট এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিলেও ইসরায়েলি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনও যুদ্ধ থামানোর মতো কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও শুরুতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমানে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ভিন্ন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার সম্মানজনক উপায় খুঁজছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।